আপনি কেমন ব্যক্তিত্বের জানেন কি ?

ব্যক্তিত্ব একজন মানুষকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ছায়ার মত সঙ্গ দিয়ে যায়। আমাদের দৈহিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, হাত, পা,  মাথা, চোখ, ঠোট, আঙুল এসবের মত যে কোন মানুষের জন্য ব্যক্তিত্বও তার শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অন্যভাবে বলতে পারেন এটি আপনার দ্বিতীয় ভাষা, যে ভাষা শোনা যায় না তবে দেখা যায়। এটিই একমাত্র মৌলিক ভাষা যেটি সার্বজনীন স্বীকৃত। 

ব্যক্তিত্বকে প্রকাশের ক্ষেত্রে কেবলমাত্র একটি সংজ্ঞাই যথেষ্ট হবে না। কারন মনোবিজ্ঞানীদের এটিকে ঘিরে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন মত। কেউ ব্যক্তির স্বকীয়তার ওপর জোড় দিয়েছেন, আবার কেউ ব্যক্তির ওপর  পরিবেশের প্রভাবের দিকে দৃষ্টিপাত করেছেন। যেমন- ওয়েনি ওয়েটেন বলেছেন, “ব্যক্তিত্ব ব্যক্তির স্বতন্ত্র স্থায়ী আচরণগত বৈশিষ্ট্যের সমাহার”। অন্য দিকে, গর্ডন অ্যালপোর্ট এর মতে, “ব্যক্তিত্ব হচ্ছে পরিবেশের সাথে ব্যক্তির এক বিশেষ সংগতিপূর্ণ আচরণ”।

সুতরাং মূলত ব্যক্তিত্ব ব্যক্তির আচরণ বা বৈশিষ্ট্যের একটি সমীকরণ। এতে করে আপনারা নিজেদের অবস্থান এবং অন্যদের আপনার প্রতি অবস্থান সম্পর্কে বুঝাতে পারবেন।

ব্যক্তিত্বের প্রকারভেদের সমন্বয় করার সূচনা হয় সেই গ্রীক দার্শনিক হিপোক্রোটাসের সময় থেকেই। ফলে উঠে এসেছে একাধিক মতবাদ। এমনকি এ প্রক্রিয়াটি এখনও চলমান। মনোবিজ্ঞানী কার্ল ইয়ুং তার মনস্তাত্ত্বিক ধরন তত্ত্বে অন্তর্মুখী এবং বহির্মুখী এই দুধরনের ব্যক্তিত্বের কথা বলেছেন। মূলত আত্মকেন্দ্রিক মানুষেরা তাদের মাঝে অন্তর্মুখী ব্যক্তিত্বকে ধারণ করে। তারা অন্যকে নিয়ে একেবারেই উৎসাহী হন না৷ খুব বেশি সামাজিকতা তাদের  মাঝে নেই। নিজের সুখের জন্য এই ব্যক্তিত্বের মানুষেরা যে কোন কিছুকে বিসর্জন দিতে পারেন। কখনও কখনও লোভনীয় অনেক প্রস্তাবও তারা বিনা দ্বিধায় প্রত্যাখ্যান করেন শুধুমাত্র মনের খেয়ালের জন্য। তারা ভুলোমনা, তবে প্রচণ্ড সৃষ্টিশীল। আমাদের সমাজের সম্মানিত কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিকেরা অন্তর্মুখী ব্যক্তিত্বের অধিকারী।

পক্ষান্তরে বহির্মুখী ব্যক্তিত্বের মানুষেরা খুব বেশি সামিজকতায় বিশ্বাসী হন। তারা সকল ধরনের সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং স্বভাবতই ধার্মিক হয়ে থাকেন। দেশ, সমাজ,  প্রকৃতি, প্রযুক্তি এসব বিষয়ে তাদের থাকে প্রবল আকর্ষণ।

তবে বর্তমানে মনোবিজ্ঞানীগণ অন্তর্মুখী এবং বহির্মুখী ব্যক্তিত্বের সনন্বয়ে একটি নতুন প্রকারের ধারণা দিয়েছেন যার নাম উভমুখী ব্যক্তিত্ব। উভমুখী ব্যক্তিত্বের মানুষেরা প্রতিনিয়ত ব্যক্তিত্বের পালাবদল কর‍তে থাকে অর্থাৎ তাদের আচরণে কখনও বহির্মুখী ব্যক্তিত্বের ছবি ফুটে ওঠে, কখনওবা অন্তর্মুখী ব্যক্তিত্বের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।

অন্যদিকে মনোবিজ্ঞানী সেলডন ব্যক্তিত্বের শ্রেণীকরণে শারীরিক গড়নের বিষয়টিকে জোর দিয়েছেন। তিনি এন্ডোমার্ফি, মেসোমার্ফি এবং একটোমার্ফি এ তিনটি শ্রেণিতে তিনি ব্যক্তিত্বকে ভাগ করেছেন। এন্ডোমার্ফি ব্যক্তিরা আরামপ্রিয় এবং ভোজনবিলাসী। তাদের পেটে  চর্বির আধিক্য দেখা যায় এবং শরীর খুবই কোমল হয়ে থাকে। অনেকাংশে তাদের মুখাবয়ব গোলাকার আকৃতির হয়। অন্যদিকে মেসোমার্ফি ব্যক্তিরা সুঠাম দেহের অধিকারী। তাদের মাংসপেশী দৃঢ় এবং শক্তিশালী। এরা প্রচণ্ড উদ্যমী, বেপরোয়া এবং দুঃসাহসি হয়ে থাকেন। একটোমার্ফি ব্যক্তিরা তাদের খারাপ স্বাস্থ্যের জন্য প্রায়শই নেশাকারী হিসেবে সনাক্ত হয়ে থাকে যদিও এটা সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত নয়। এরা শীর্ণ দেহের অধিকারী, আত্মকেন্দ্রিক এবং সমাজবিমুখ হয়ে থাকে।

এতক্ষণে পাঠক, আপনি নিশ্চয়ই নিজের ব্যক্তিত্বের ধরণ সম্পর্কে একটা ধারণা পেয়ে গেছেন।

Check Also

দুর্ধর্ষ ও সাহসী জাতি 'মাসাই'

দুর্ধর্ষ ও সাহসী জাতি ‘মাসাই’ দের কাহিনী

পৃথিবীতে যে কয়টি দুর্ধর্ষ ও সাহসী জাতি সম্বন্ধে জানা যায় এদের মধ্যে “মাসাই” অন্যতম। মাসাইদের …