করোনা নিয়ে মিছে আতংক নয়
করোনা নিয়ে মিছে আতংক নয়

করোনা নিয়ে মিছে আতংক নয়

নোংরা ধরবেন না, নোংরা করবেন না

গত এক মাসে আপনি সবথেকে বেশি কোন শব্দটি নিয়ে আলোচনা শুনেছেন? যদি সেটা ‘করোনা’ ভাইরাস না হয়ে থাকে তবে তা অবাক হওয়ার মতই ঘটনা। করোনা আতংক এখন বিশ্বের প্রতিটি কোণায় এবং আমাদের বাংলাদেশেও। এমতাবস্থায় মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে গেছে করোনা সম্পর্কে কিছু ভূল ধারণা। এগুলোর কিছু কিছু একেবারেই সত্যি নয়, আবার কিছু কিছু আংশিক মিথ্যা। দূরবীণের দর্শকদের এখন এমনই কিছু ভূল ধারণা সম্পর্কে জানাবো যা নিয়ে আতংকগ্রস্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

১। প্রথমেই বলে রাখি, করোনা মানেই নিশ্চিত মৃত্যু নয়। এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে আপনার শতকরা ৯২ ভাগ সুযোগ আছে সম্পুর্ণ সুস্থ হয়ে যাওয়ার। চায়নিজ সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল এন্ড প্রিভেনশনের একটি গ্রাফে প্রকাশিত হয়েছে বয়স অনুযায়ী করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুহার। সেখানে বলা হয়েছে, শুন্য থেকে ৩৯ বছর বয়সীদের জন্য করোনায় আক্রান্ত অবস্থায় মৃত্যুর সম্ভাবনা শতকরা ০.২ ভাগ। ৪০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের এই হার শতকরা ০.৪ ভাগ, ৫০ থেকে ৫৯ বছর বয়সীদের এই হার শতকরা ১.৩ ভাগ, ৬০ থেকে ৬৯ বছর বয়সীদের করোনায় মৃত্যুর হার শতকরা ৩.৬ ভাগ। ৭০ থেকে ৭৯ বছর বয়সীদের জন্য এই হার শতকরা ৮ ভাগ এবং ৮০ উর্ধ ব্যক্তিদের জন্য করোনায় মৃত্যুর হার সবথেকে বেশি যা শতকরা ১৪.৮ ভাগ। অর্থাৎ আপনি বুঝতেই পারছেন, মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর করোনা থেকে মুক্তি লাভের হার নির্ভর করছে। বার্ধক্যে পড়েছেন যারা তাদের জন্য করোনায় মৃত্যুর ঝুঁকি আছে ঠিকই তবে তা খুব বেশি নয়। আর অল্প বয়সীদের জন্য এই মৃত্যু হার শুণ্যের কাছাকাছি। করোনায় আক্রান্ত হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরছে।

২। করোনা হোলে কি করবো! এই আতংকে ঘুম আসছেনা অনেক মানুষের। অনেকেই ভাবছেন বনবাসে চলে যাবার কথা। আর মানুষ এমনটা ভাববে নাই বা কেন, এই এক ভাইরাস নিয়ে যত খবর প্রকাশিত হচ্ছে তা মানুষের মনে ভয় ধরিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। তবে আশার কথা হোলো, করোনায় মৃতের সংখ্যার পাশাপাশি মানুষের সুস্থ হয়ে ওঠার দৈনিক হিসাব জানলে কেউই এতটা ঘাবড়াতো না। অকারণে প্যানিক করতো না। বরং করোনায় মৃত্যুর থেকে সাধারণ ঠান্ডা লাগায় মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি।

৩। এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কোন শিশুর মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ শুন্য থেকে ৯ বছর বয়সী গোটা বিশ্বের কোনো শিশু করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যায়নি। তাই ছোট বাচ্চাদের নিয়ে যারা ভয়ে দিন-রাত পার করছেন, তারা ভয় পাবেন না। তবে সতর্ক থাকুন সবসময়।

৪। করোনায় আক্রান্ত ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে মাত্র একজনের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে যা পুরোপুরিভাবে কেউ নিশ্চিত নয়।

৫। খুব সাধারণ সর্দি কাশির মতই করোনাও সেরে যায়। করোনা হলেই আপনাকে হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি হতে হবে এমন কোন কথা নেই। বাসায় থেকেই সম্পূর্ণ বিশ্রাম নিলেই আপনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাবেন।

৬। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বৃদ্ধ মানুষদের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও গবেষণা বলছে, তাদের বেশিরভাগেরই পূর্বের বিভিন্ন অসুখ ছিও এবং একারণেই তাদের শরীর রোগ প্রতিরোধ করতে পারেনি।

৭। আতংকগ্রস্ততা খুব ভয়াবহ জিনিস। একটা মানুষ ভয় পেয়ে গেলেই সে অর্ধেক মরে যায়। অনেককেই বলতে শুনেছি, বাংলাদেশে একবার করোনা ঢুকলে দেশটা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। কথাটা বলার আগে তারা সামান্যতম চিন্তা করে কিনা এই বিষয়ে সন্দেহ আছে। কারণ, আপনারা হয়তো ইতোমধ্যেই জেনেছেন, করোনা ভাইরাসটি গরমে বাঁচতে পারে না। এটি ঠান্ডা জায়গায় বেঁচে থাকে তাও সাত থেকে নয় ঘন্টা। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় করোনা ভাইরাস এমনিতেই কম ছড়াবে কারণ বাংলাদেশ উষ্ণ দেশ। আপনার বুদ্ধি ও চিন্তাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে সাবধানে চলাফেরা করুন। এটি কোনো মারাত্বক ভাইরাস নয়।

৮। করোনা আতংকে যারা খাবারের ব্যপারে অতি সাবধান হয়ে গেছেন, তাদের জানিয়ে রাখি, উচ্চ তাপে রান্না করা খাবারে এই ভাইরাস থাকেনা। যদি সাবধান হতেই চান, তবে ফ্রিজের খাবার ভালোমত গরম না করে খাবেন না। আর তা চুলায় গরম করতে হবে, মাইক্রোওয়েভে নয়। এছারা ঠান্ডা জাতীয় খাবারগুলো কিছুটা এড়িয়ে চললেই ভাল। ফলমূল ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়ার কথা নিশ্চয়ই নতুন করে বলতে হবে না।

৯। যারা পাগলের মত বস্তা ভরে মাস্ক ও স্যানিটাইজার কিনছেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলছি। আপনার হাতে যদি করোনা ভাইরাস লেগে যায়, সাধারণ সাবান দিয়ে হাত ধুলেই আপনি করোনা ভাইরাসকে মেরে ফেলতে পারবেন। করোনা তৈলাক্ত ভাইরাস, যেকোনো ক্ষার এটিকে নষ্ট করে দেয়। তাই বেশি বেশি হাত ধুয়ে আশংকা মুক্ত থাকুন। ফার্মাসিতে স্যানিটাইজারের জন্য ছোটাছূটি না করলেও হবে। আর মাস্ক ব্যবহার না করলেই যে আপনাকে করোনা ধরে ফেলবে এমনটাও নয়। বরং আপনার নোংরা হাতে মাস্ক ধরে সেই মাস্ক যদি আপনি ব্যবহার করেন, তাতেই বরং আপনার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। নোংরা হাত নাক ও মুখে কোনভাবেই দিবেন না।

পরিশেষে সবাইকে বলতে চাই, আমরা সবাই মিলে একত্রে দেশকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখলে যেকোনো দানবকেই তাড়িয়ে দিতে পারবো, তা সে যতই শক্তিশালী হোক না কেন। অযথা আতংকিত হবেন না, নোংরা ধরবেন না, নোংরা করবেন না। 

এছাড়া ও করোনা সম্পর্কিত আরো কিছু ভিডি দেখে নিতে পারেন।

করোনা থেকে বাঁচতে ইউনিসেফ এর ৮ পরামর্শ।


মরণঘাতী করোনা ভাইরাসা থেকে প্রতিকারের উপায় জেনে নিন ।

চ্যানেল টি সাবস্ক্রাইব করে আমাদের সাথেই থাকুন

Check Also

ভ্রমনে পরিপূর্ণ আনন্দ পেতে চাইলে যে ৭ টি ভুল করা উচিত নয়

ভ্রমনে পরিপূর্ণ আনন্দ পেতে চাইলে যে ৭ টি ভুল করা উচিত নয়

যারা দেশ বিদেশে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করেন, অবসর পেলেই হারিয়ে যেতে চান পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে …