দুর্ধর্ষ ও সাহসী জাতি 'মাসাই'

দুর্ধর্ষ ও সাহসী জাতি ‘মাসাই’ দের কাহিনী

পৃথিবীতে যে কয়টি দুর্ধর্ষ ও সাহসী জাতি সম্বন্ধে জানা যায় এদের মধ্যে “মাসাই” অন্যতম। মাসাইদের অবিশ্বাস্য সাহসিকতার কাহিনী এখনও আফ্রিকার ঘরে ঘরে শোনা যায়। 

মাসাইদের বর্তমান নিবাস কেনিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে মাসাইমারা রেঞ্জে এবং পৃথিবীর সবচেয়ে জীব বৈচিত্র্যপূর্ণ এলাকা বলে পরিচিত তানজানিয়ার সেরেঙ্গেতি উপত্যকায়। মাসাইদের আদি নিবাস ছিল বর্তমান দক্ষিন সুদান এবং উত্তর কেনিয়াতে। সতেরো এবং আঠেরো শতকে মাসাইরা তাঁদের আদি নিবাস ছেড়ে বর্তমান এলাকায় আসে। উনবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে মাসাইরা সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে ছিল। ঐ সময়ে আফ্রিকা মহাদেশের অন্যতম শক্তিশালী জাতি জুলু এবং সোয়াজীরাও মাসাইদের নাম শুনলে ভয়ে কাঁপতো। এতটাই দুর্ধর্ষ ও সাহসী জাতি এবং ভয়ংকর ছিল মাসাইরা।  মাসাইদের নিজস্ব ভাষা হোল “ম্যা”। তবে তাঁরা অন্যান্য আফ্রিকান অধিবাসীদের মতো সোয়াহিলি ভাষায় কথা বলতে পারে। মাসাইদের প্রিয় যুদ্ধাস্ত্র হোল অ্যাসেগাই (এক ধরনের বল্লম) এবং মহিষের চামড়া দিয়ে বানানো ঢাল। এই অস্ত্র দিয়েই তাঁরা জীব-জন্তু শিকার করে। তীর-ধনুক দিয়ে শিকার করা তাদের অপছন্দ করতো! তারা বিশ্বাস করে, তীর-ধনুক দিয়ে শিকার করে কাপুরুষেরা! 

পশুর রাজা সিংহ শিকারে মাসাইরা সিদ্ধহস্ত ছিল। মাসাইমারা রেঞ্জ এবং সেরেঙ্গেতি উপত্যকা সিংহের প্রিয় আবাসভূমি। বুকে অমিত সাহস নিয়ে শুধুমাত্র অ্যাসেগাই ও বুনো মোষের চামড়ার তৈরি ঢাল নিয়েই মাসাইরা সিংহ শিকারে বের হতো!! সিংহ শিকারে যারা বীরত্ব দেখাতো তাদেরকে তাঁরা “মোরান” উপাধিতে ভূষিত করতো। সিংহ শিকারের সময় একজনের দায়িত্ব থাকতো সিংহের লেজ ধরে সিংহকে ঘোরানো, আর সেই সুযোগে বাকি যোদ্ধারা অ্যাসেগাই চালাতো! যে মোরান সর্বাধিক সংখ্যকবার সিংহ শিকারে যেয়ে লেজ ধরে টান দেয়ার গৌরব অর্জন করেছে সেই হতো পূর্বের সর্দারের মৃত্যুর পর নতুন সর্দার।
মাসাইদের মধ্যে কোন মুদ্রা ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল না। দ্রব্য বিনিময়ের মাধ্যমে তাঁরা তাঁদের প্রয়োজন মেটাতো। জীব-জন্তু শিকার করা ছাড়াও তাঁরা গরু পালন করতো। মেয়ে পক্ষকে গরু যৌতুক দিয়েই মাসাই পুরুষেরা বিয়ে করতো। যার গরুর সংখ্যা যত বেশি থাকতো মাসাই সমাজে তাঁর মর্যাদা থাকতো তত বেশি। মাসাইরা মানুষ ও অন্যান্য জীব-জন্তু পাত্তা না দিলেও ভূত-প্রেতকে অনেক ভয় পেতো!! এজন্য তাদের মৃত আত্মীয়-স্বজনকে তারা ওঝার মাধ্যমে পূজা করতো!! মাসাইদের সর্দার এর চেয়েও বেশি ক্ষমতা ছিল ওঝাদের। ওঝারা চিকিৎসা ও ভবিষ্যদ্বাণীও করতো!! 

বখতিয়ার খিলজির জীবনী সম্পর্কে পড়ুন

মাসাইদের আবাসভূমি মাসাইমারা রেঞ্জ ও সেরেঙ্গেতি এখনও জীব বৈচিত্র্যে ভরপুর। পুরো আফ্রিকা মহাদেশের শুধুমাত্র এই এলাকাটিই এখনও আদিম আফ্রিকার চিহ্ন ধরে রেখেছে। বর্তমান সময়ে মাসাইমারা রেঞ্জ ও সেরেঙ্গেতিতে শিকারের বদলে সাফারি এখন বেশি জনপ্রিয়। মাসাইদেরও এখন শিকার করার লাইসেন্স নেই। মাসাইরা তাই এখন অন্যান্য পেশার সাথে যুক্ত হয়ে পড়েছে।

Check Also

মুসলিম বিজ্ঞানী – ‘আল বাত্তানী’

সাইন কোসাইনের সাথে ট্যানজেন্টের সম্পর্ক অথবা একটি ত্রিভুজের বাহুর সাথে তার কোণের  যে সম্পর্ক বিদ্যমান …