ধর্ষণ, নিপীড়ন – কোন দেশে কত জন?

ধর্ষণ পৃথিবীর গর্হিত অপরাধগুলোর একটি। একেক দেশে এটির শাস্তি বিধান একেক রকম। অনেক দেশেই ধর্ষণকে খুব স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে দেখা হয়। তবে এর চেয়ে গর্হিত অপরাধ আর নেই। ধর্ষণকে খুনের চেয়েও গর্হিত অপরাধ বলে গন্য করা উচিত। আজ আমরা জানতে চলেছি পৃ্থিবীর এমন সব উন্নত দেশ সম্পর্কে যেখানে ধর্ষণের হার সবচেয়ে বেশি। 

ডেনমার্ক এবং ফিনল্যান্ড –

ইউরোপে প্রতি ৩জনের ১জন নারী যৌন নিপীড়নের স্বীকার হয়েছেন, যেখানে ধর্ষণের স্বীকার শতকরা  ৫জন নারী। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এজেন্সি ফর ফান্ডামেন্টাল রাইটসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয় ফীনল্যান্ডের শতকরা প্রায় ৪৭ভাগ নারী শারীরিক কিংবা সাংকেতিকভাবে যৌন হয়রানির স্বীকার হয়েছেন। অন্যদিকে ডেনমার্কে এই হার আরও বেশি, প্রায় ৫২ শতাংশ। ফিনল্যান্ড অন্যতম শেষ দেশ যেখানে অনেক পরে ধর্ষণকে একটি অপরাধ হিসেবে সনাক্ত করা হয়েছে।

জিম্বাবুয়ে –

প্রতি ৯০ মিনিটে একজন নারী ধর্ষিত হয় জিম্বাবুয়েতে। জিম্বাবুয়ে ন্যাশনাল স্ট্যাটিকস এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, সেখানে প্রতিমাসে যৌন নিপীড়নের স্বীকার হন অন্তত ৫০০ জন নারী এবং নিয়মিত ভুক্তভোগী নারীর সংখ্যা ১৬। জিম্বাবুয়েতে এ ধরনের নির্যাতিত ৫ থেকে ১০ বছরের শিশুদের সংখ্যা বছর প্রতি ১১০০ জন।

অস্ট্রেলিয়া –

অস্ট্রেলিয়াও এ তালিকায় অন্যতম উন্নত দেশ। নিউজ ডট কম এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে অস্ট্রিলিয়ায় প্রতি ৬ জনের ১জন নারী যৌন নিপীড়নের স্বীকার হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডে যৌন হয়রানির হার প্রায় এক, যা ১৬.৪ শতাংশ। এসব ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ অপরাধীই হচ্ছেন আত্মীয়, বন্ধু কিংবা অফিস কলিগ। বাকী ২৯ শতাংশ অপরাধী তারা, যাদের সাথে ভুক্তভোগীর সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচয় হয়েছিল। কেবলমাত্র ১ শতাংশ ধর্ষণের জন্য দায়ী অগ্যাতনামা আগন্তক।

কানাডা –

হাফিংটনপোস্টের একটি প্রতিবেদনে বলা হয় কানাডায় প্রতি বছর প্রায় ৪ লক্ষ ৬০ হাজার জন নাগরিক যৌন নির্যাতনের স্বীকার হয়ে থাকে। তবুও ১ হাজারটি এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মধ্যে পুলিশের কান পর্যন্ত যায় মাত্র ৩৩টি ঘটনা এবং সবশেষে মাত্র ২৯টি কেস ডায়েরিতে নথিবদ্ধ করা হয়।

নিউজিল্যান্ড –

অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড দুটি দেশেই যৌন নিপীড়নের হার ১৬.৪ শতাংশ। মিনিস্টার অব জাস্টিস পাবলিকেশনের একটি রিপোর্টে বলা হয়, নিউজিল্যান্ডে  প্রতি ২ঘন্টায় ১বার সেকচুয়াল ভাইয়োলেন্সের মত ঘটনা ঘটে। এখানে তিনজন কিশোরীর মধ্যে একজন এবং ৬ জন কিশোরের মধ্যে ১জন যৌন নিপীড়নের স্বীকার হয় যাদের বয়স ১৬ এর নিচে। এত কিছুর পরেও মাত্র ৯ শতাংশ কেস পুলিশের খাতায় লিপিবদ্ধ হয়।

ভারত –

সেকচুয়াল হ্যারাসমেন্ট ভারতের একটি প্রধান সমস্যা। দেশটিতে প্রতি ২০ মিনিটে একজন ধর্ষিত হয়। প্রতি ৩জনের ১জন ভুক্তভোগীর বয়স ১৮ এর নিচে এবং প্রতি ১০ জনের ১ জনের বয়স ১৪ এরও কম। ভারতের সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে নয়া দিল্লীতে। প্রতিদিন ভারতে প্রায় ৯৩জন নারী ধর্ষিত হয়।

ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস –

“অ্যান ওভারভিউ অফ সেকচুয়াল অফেন্ডিং ইন ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস” শিরোনামে মিনিস্ট্রি অফ জাস্টিস এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, সেখানে প্রতিবছর ধর্ষণের স্বীকার হন প্রায় ৮৫ হাজার নাগরিক, যাদের ৭৩ হাজার জন নারী এবং ১২ হাজার জন পুরুষ। থানায় জমা হয় দিন প্রতি ২৩০ টি কেস। ১৬ বছরের কিশোরীদের মধ্যে প্রতি ৫ জনে ১ জন স্বীকার হন যৌন হয়রানির।

আমেরিকা –

জর্জ ম্যাসন ইউনিভার্সিটির একটি প্রতিবেদনে বলা হয় আমেরিকার প্রতি ৩ জনের ১ জন নারী তাদের জীবদ্দশায় অন্তত একবার যৌন হয়রানির স্বীকার হন। তবুও বিচার ব্যবস্থা কঠোর নয় ধর্ষকদের জন্য। প্রায় ৯৮ শতাংশ ধর্ষককে একটি রাতের জন্যও হাজতে থাকতে হয় না। ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, আমেরিকার থানা হাজতে নারীদের তুলনায় পুরুষদের ধর্ষণের হার বেশি৷ প্রতিবছর প্রায় ২ লক্ষ ১৬ হাজার জন কারাবাসী ধর্ষিত হয় সেখানে।

সুইডেন –

সুইডেন ধর্ষণে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষস্থানীয় দেশ। এখানে প্রতি ৪জন নারীর একজন ধর্ষিত হন। সুতরাং বুঝতেই পারছেন নারীদের জন্য খুব বেশি নিরাপদ নয় সুইডেন। সুইডেনের রেপ ক্রাইসিস এডভোকেটদের মতে সুইডেনে প্রতি ৩ জন নারীর ১ জন টিনেজ থাকতেই ধর্ষিত হয়।

দক্ষিণ আফ্রিকা-

ধর্ষণের মত গর্হিত অপরাধ সবচেয়ে বেশি ঘটে দক্ষিণ আফ্রিকায়। এখানের প্রায় ৪০ শতাংশেরও বেশি নারী জীবনে অন্তত ১ বার ধর্ষিত হয়। প্রতিবছর থানায় প্রায় ৫ লক্ষ মামলা আসে দক্ষিণ আফ্রিকায়। মেডিক্যাল গবেষকদের মতে, প্রতি ৯টি কেসের মাত্র ১টিই ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করা হয়। তাহলে  প্রকৃত ভুক্তভোগীর সংখ্যা কত হতে পারে, তা চিন্তার বিষয়।

Check Also

রেলগাড়ি আবিষ্কারের মজার গল্প

রেলগাড়ি আবিষ্কারের মজার গল্প

ছেলেবেলায় আমরা একজনের কাধে দুটি হাত রাখতাম, আবার নিজের কাধে অন্য কেউ দু হাত রেখে …