নরকের আঁচ লেগেছে যেসব দেশে

নরকের আঁচ লেগেছে যেসব দেশে

পৃথিবীতে নরকের আঁচ লেগেছে এমন অনেক দেশই আছে। অর্থাৎ যে দেশগুলোতে আর সুখের ছিটাফোঁটাও নেই। আজ আপনাদের এমনই অসুখী পাঁচটি দেশ সম্পর্কে জানাবো।

এখানে একটি বিষয় উল্লেখ্য যে, 

একটি দেশের নাগরিকের মাথাপিছু আয়,মত প্রকাশের স্বাধীনতা,  গড় আয়ু, পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস,উদারতা এসব বিষয় নিয়ে জাতিসংঘের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান সাস্টেইনেবল ডেভলপমেন্ট সলিশন নেটওয়ার্ক একটি সার্ভে করে যার নাম ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট। এই রিপোট অনুসারে একটি দেশ কতটা সুখী কিংবা অসুখী তা নির্ধারিত হয়। 

#বোতসোয়ানা –

এটি সাউথ আফ্রিকায় অবস্থিত একটি ল্যাণ্ডলক দেশ যার ৭০ শতাংস পড়েছে বালিহারি মরুভূমিতে। ল্যান্ডলোক দেশ হচ্ছে এমন সব দেশ যারা কোন মহাসাগরের সাথেই সংযুক্ত নয়। পৃথিবীতে এমন ৪৯টি দেশ আছে৷ এখানে পানি এতটাই দুর্লভ যে টাকাকে পুলা বলা হয়। পুলা বোতসোয়ানার মাতৃভাষা  সেতসোয়ানার একটি শব্দ যার অর্থ বৃষ্টি বা আশীর্বাদ। বোতসোয়ানার ৪০ শতাংশই পার্ক এবং জংলী প্রাণীকুলের আদর্শস্থান৷ গেলো বছর ৪০বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ খরার সসম্মুখীন হয়েছিল বোতসোয়ানা যখন দেশটির তাপমাত্রা ছিল ৪১° সেন্ট্রিগেডেরো বেশি৷ 

# রিপাবলিক অফ সাউথ সুদান –

আফ্রিকার উত্তর কেন্দ্রে অবস্থিত সাউথ সুদানও একটি ল্যান্ডলক দেশ। দেশটির রাজধানী এবং বৃহত্তম শহর ডুবা। দেশটি স্বাধীনতা পেয়েছে মাত্র ৮ বছর আগে। এখানের ৪মিলিয়ন মানুষ নিয়মিত খাদ্যাভাবে ভুগছে৷ শতকরা ৯০ ভাগেরও বেশি মানুষের প্রতিদিনের আয় ১ডলারেরও কম। পাশাপাশি সাউথ সুদানেই নিরক্ষরতার হার পৃথিবীর সব থেকে বেশি। প্রতি ৬ জনে একজন সন্তানসম্ভবা নারী মারা যায় দেশটিতে। শতকরা ১৬ ভাগ শিশু স্কুলে যায় এবং পড়াশুনা শেষ করতে পারে মাত্র শতকরা ২ ভাগেরও কম শিশু। শতকরা ৮০ ভাগ মানুষের নেই কোন স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট। খাবার এবং ব্যবহারের জন্য পানি আনতে এখানকার মানুষদের প্রতিদিন প্রায় ৪৫মিনিটের হাটা পথে যাওয়া আসা করতে হয়।

#সেন্ট্রাল আফরিকান রিপাবলিক –

দেশটি আফ্রিকার একেবারে কেন্দ্রে অবস্থিত একটি ল্যান্ডলক দেশ৷ এর রাজধানী বাংগুল। দেশটির মোট জনসংখ্যা প্রায় ৫.৫ মিলিয়ন। দেশটিতে মুসলমান ধর্মালম্বী মাত্র ১৫শতাংশ। দেশটির পতাকা পাঁচটি ভিন্ন রঙের সংমিশ্রণ। হলুদ রঙ দেশটির স্বাধীনতার প্রতীক, সাদা এবং নীল ফ্রান্সের প্রতীক,  লাল রঙটির দ্বারা বোঝানো হয় ফ্রান্স এবং সেন্ট্রাল রিপাবলিকের মধ্যে একতার সংকেত এবং সবুজ ও হলুদ হচ্ছে আফ্রিকার প্রতীক। এখানের ৭০ভাগ জনগণ দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করে। দেশটির অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষিকাজ। আফ্রিকার ২১তম বৃহৎ দেশ এটি। 

#ইয়েমেন –

এরাবিয়ান পেনিসুলার দক্ষিণের একেবার শেষ পর্যায়ে অবস্থিত ইয়েমেন একটি উন্নয়নশীল দেশ৷ ‘সালা’ এর রাজধানীর নাম। ২০মিলিয়ন মানুষ এখানে খাদ্যাভাবে ভোগে৷ প্রতিরোধযোগ্য রোগেও ইয়েমেনে প্রতি ১০মিনিটে ১জন শিশু মারা যায়।  কোন মহামারী নয় বরং পুষ্টিহীনতা, ডায়রিয়া,শ্বাসকষ্ট এসব শিশুদের মৃত্যুর কারন।এই মুহূর্তে সেখানকার জনগণের খাদ্যাভাব পূরণের জন্য সহায়তা করছে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম। 

#হায়তি –

নর্দান সেমিস্ফায়ারের সবচেয়ে দরিদ্র দেশ হায়তি৷ এখানকার আরবান এরিয়ার ৫০ভাগ মানুষ বেকার। দেশটি কৃষিনির্ভর হলেও পর্যাপ্ত ফসল উৎপাদন করতে পারে না, বরং দেশের চাহিদা মেটাতে ৫০ শতাংশ ফসল বাইরে থেকে আমদানি করে। এদের মূলখাদ্য ভাত অথচ দেশটিতে  চালের আমদানির পরিমাণ শতকরা ৮০ ভাগ। এখানকার জনগণের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা খুব বেশি হওয়ায় পর্যটকদের জন্যও নিরাপদ নয় দেশটি।

Check Also

কারিগর

আধুনিক ডিজেল ইঞ্জিনের কারিগর

আপনার অফিস বাসা থেকে বেশ খানিকটা দূরে, ছেলেমেয়ের স্কুলও হাতের নাগালে নেই। তার ওপরে আপনি …