যুদ্ধড্রোন

মনুষ্যবিহীন ভয়ংকর আকাশযান বা যুদ্ধড্রোন

মনুষ্যবিহীন যুদ্ধবিমান যার ইংরেজি নাম Unmanned combat air vehicle. এটি যুদ্ধড্রোন হিসেবেও পরিচিত। ড্রোন শব্দের অর্থ গুঞ্জন। মৌমাছির গুঞ্জনের সাথে আওয়াজের মিল থাকার কারণের মনুষ্যবিহীন আকাশযানের এই নামকরণ করা হয়েছে। বর্তমান সময়ের সবথেকে আলোচিত বিষয় হোল এই মনুষ্যবিহীন যুদ্ধড্রোন। নাম থেকেই বোঝা যায় যে এই বিশেষ ধরণের আকাশযান বা ড্রোন চালাতে কোনো চালকের প্রয়োজন হয় না। তবে কম্পিউটারের সামনে থেকে ড্রোনটিকে পরিচালনা করতে হয় খুব সাবধানে নাহলে সামান্য অসাবধানতায় অনেক বড় ক্ষতি করতে পারে এই ড্রোন।মনুষ্যবিহীন এই যুদ্ধবিমানগুলোকে পরিচালনা ও নির্দেশনা দেয়ার জন্য ড্রোনের ভিতর সংবেদনশীল যন্ত্র ও ক্যামেরা লাগানো থাকে। এই যন্ত্র ও ক্যামেরাগুলোই সর্বক্ষণ চারপাশের ছবি, ভিডিও ও শব্দ ধারণ করে পাঠিয়ে দেয় কম্পিউটারে। এর মাধ্যমেই অনেক দূর থেকে বিভিন্ন জায়গার অবস্থা, আবহাওয়া ও প্রতিপক্ষের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে পারে উন্নত দেশগুলো। গুপ্তচরবৃত্তিতে যুদ্ধড্রোনের বিকল্প নেই। কারণ এটি রেডিও সিগন্যালের ব্যাঘাত ঘটিয়ে গোপন পরিকল্পনা ড্রোন পরিচালকের কাছে নিমেষেই পৌঁছে দিতে পারে।তবে সামরিক কাজেই ড্রোনের ব্যবহার সবথেকে বেশি। দেশের সমুদ্রসীমা, আকাশসীমা পাহারা দেয়ার কাজও করে এই মনুষ্যবিহীন ড্রোন।

১৯৪০ সাথে এই ধরণের আকাশযান তৈরীর আভাস দেন ইউ এ সেনাব্রিয়া এবং ডঃ লি দে ফরেস্ট। তাঁরা একটি নিবন্ধের মাধ্যমে মনুষ্যবিহীন ড্রোনের ধারণা তুলে ধরেছিলেন প্রথমবার। ১৯৭১ সালে মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য নিত্য নতুন অস্ত্র তৈরী করার সময় যুদ্ধড্রোনের প্রথম মডেল তৈরী করেন জন ফস্টার জুনিয়র। তাঁকেই এখনকার সফল যুদ্ধ ড্রোন বা সামরিক ড্রোনের স্রষ্টা বলা হয়।১৯৭৩ সাথে প্রথমবার প্রতিপক্ষ মিশরের অবস্থান জানার জন্য ড্রোন ব্যবহার করে ইজরায়েল। সেই থেকে শুরু, দিনে দিনে যুদ্ধ ড্রোনের চাহিদা ও মান দুটোই বাড়তে থাকে। ১৯৮০ সাথে প্রথমবার অস্ত্রবাহিত ড্রোন ব্যবহার করে ইরান ,ইরাকের বিরুদ্ধে। ১০৯১ সালে গলফ যুদ্ধে প্রথমবার ড্রোন ব্যবহার করে মার্কিন নৌবাহিনী এবং বর্তমানে পাকিস্তানে নিয়মিত ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন সেনারা।

ড্রোন থেকে মিসাইল বা ক্ষেপনাস্ত্র ছুঁড়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা এখন প্রায়ই আন্তর্জাতিক সংবাদে দেখা যায়। গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন যুদ্ধড্রোনের মাধ্যমে বাগদাদের বিমান বন্দরে মিসাইল আক্রমন চালিয়ে হত্যা করা হয় জেনারেল কাশিম সোলাইমানি সহ ইরাক ও ইরানের আরোও নয়জনকে। ড্রোনটি প্রেরণ করা হয় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে। আমেরিকার হান্টার কিলার নামে পরিচিত ভয়ংকর ইউএস এমকিউ-নাইন রিপার ড্রোন থেকে লেজার গাইডেড অস্ত্র দিয়ে এই হামলা চালানো হয়।

ড্রোনটি ২৩০ কিলোমিটার দূর থেকে ২৩০ মাইল বেগে নিখুঁতভাবে আঘাত হানে টার্গেটের উপর। ভয়ংকর এই মনুষ্যবিহীন যুদ্ধড্রোনটিতে জ্বালানি ভরলে একবারে এটি তার চারপাশের প্রায় এক হাজার ৮০০ কিলোমিটারের ভিতর যে কোনো জায়গায় চোখের নিমেষে বিধ্বস্ত করার মত ক্ষেপনাস্ত্র চালাতে পারে। এমকিউ-নাইন রিপার ড্রোনটিতে আছে অত্যাধুনিক ইনফ্রারেড ক্যামেরা যার মাধ্যমে রাতের বেলাতেও যেকোনো স্থানের পরিষ্কার ছবি বা ভিডিও ধারণ করা যায়।

তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আতংক সৃষ্টির পাশাপাশি এটি একটি বিষয়ে স্বস্তি এনে দেয়। তা হোলো, চালক বিহীন বিমান হওয়াতে কোন সামরিক আক্রমনে চালকের প্রাণহানির সম্ভাবনা থাকেনা। এছাড়া চালকের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী যোগান দিতে হয়না বলেই বিমানগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্ষেপনাস্ত্র বহন করা যায়।

আরো পড়ুনঃ দুর্ধর্ষ ও সাহসী জাতি ‘মাসাই’ দের কাহিনী

বর্তমানে চীন ও রাশিয়ার সামরিক বাহিনী আকাশপথে ছাড়াও সমুদ্রের গভীরে যুদ্ধড্রোন চালনা শুরু করেছে। সমুদ্রের গভীরতা এতদিন মানুষের নাগালের বাইরে থাকলেও, তা এখন আর অসম্ভব নয়। আকাশপথের পাশাপাশি ব্যবহার করা হচ্ছে সমুদ্রের তলদেশে যুদ্ধড্রোন চালনা। মার্কিন সামরিক বাহিনীও পিছিয়ে নেই। তারাও উঠে পরে লেগেছে সমুদ্রতলের ড্রোনকে শক্তিশালী করার কাজে।

Check Also

কিলার ড্রোন

চীনেই প্রথম কিলার ড্রোন !

কেমন হয় যদি বলি আপনার হাতে একটি রিমোট দেবো এবং আপনি শুয়ে বসে জলভাগ দাপিয়ে …