রহস্যঘেরা স্থান

মহাদেশের মহারাজার রহস্যঘেরা স্থান 

দেশ রাজত্ব করে শহরের ওপর, আবার মহাদেশ রাজত্ব করে দেশের ওপর। এই মহাদেশদের মধ্যে আবার আরেকজন রাজা আছেন৷ যা আয়তন, জনসংখ্যা সব কিছুতেই সবাইকে ছাপিয়ে যায়। বলছি পাহাড়ের মত অটল মহারাজ ‘এশিয়া’র কথা৷ লৌকিকতার পাশাপাশি এখানে জমাট বেধেছে অসংখ্য ধোঁয়াশা। এই ধোঁয়াশার একটি বিশেষ অংশ কিছু নির্দিষ্ট স্থানকে কে কেন্দ্র করে৷ আজ আমরা এশিয়ার এমনই কিছু রহস্যঘেরা স্থান সম্পর্কে জানবো।

১/ ফ্রায়া ন্যাখন কেভ ,থাইল্যান্ড –
পাথুরে ভূখণ্ডে ঝিরিঝিরি বৃষ্টিপাত। এর মধ্যে অনেক বছরের ঘুম চোখে নিয়ে বসে আছে একটি শান্ত গুহা৷ “খাও স্যাম রই ইয়ট” জাতীয় উদ্যানে এর বসতি৷ এর মধ্যে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর জিনিসটি হোল, ১২৫ বছরের পুরোনো এক প্যাভিলিয়ন। বস্তুত এটি একটি প্রাচীন মন্দির৷ গুহার মধ্যে এমন মন্দির দেখে মনে হতে পারে হঠাৎ যেনো পথের মাঝে সূর্য নেমেছে আর  তার সোনালী আভা গ্রাস করছে সমস্ত আধার।

ফ্রায়া ন্যাখন কেভ
ফ্রায়া ন্যাখন কেভ ,থাইল্যান্ড

২/টিয়ারস অফ জায়ান্ট, ফিলিপাইন –
বোহোলে অবস্থিত এই পাহাড়টির বিশেষত্ব হচ্ছে এর আকৃৃতি৷ পরতে পরতে এলোমেলো খাঁজ কেটে উঠে গেছে আকাশের দিকে। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে , লক্ষ লক্ষ বছরের পাথর ক্ষয়ের ফলে চির ধরে যাওয়ায় এমন উদ্ভট আকৃতির সৃষ্টি হয়েছে৷ তবে বহুল প্রচলিত একটি মিথ আছে এটিকে ঘিরে। একবার নাকি এক প্রকাণ্ড দৈত্যের চোখ থেকে এক ফোটা জল ঝরেছিল সেই পাহারে। এবং সে জল শুকিয়ে যাওয়ার কালক্রমে পাহারের আজকের এই রুপ। তবে এই রহস্যঘেরা স্থান টির আরো একটি নাম আছে ‘দ্যা চকলেট হিলস’।

টিয়ারস অফ জায়ান্ট
টিয়ারস অফ জায়ান্ট, ফিলিপাইন

পাহাড়ের গা ঘেষে আছে একটি চমৎকার সিঁড়ি৷ সিঁড়িতে উঠতে উঠতে চোখে পরবে বানরের উদ্ভট কান্ডকারখানা। দূর থেকে ভেসে আসা পাখির কলতান আপনাকে দেবে কিছুটা শ্রান্তি৷ তবে সাবধান, 

ছোট ছোট বাচ্চাদের হাতে সাপ দেখলে ভয় পাবেন না। ওরা ওখানের স্থানীয় অধিবাসী।এছাড়াও ওদের মধ্যে থেকে একদল ফিজিও স্পেশালিষ্ট আছে যারা কিনা আপনার ক্লান্ত পায়ে মালিশ করবার জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকবে৷

৩/ ঝুলন্ত কফিন, ফিলিপাইন –
ভাবুনতো এমন একটি শহরের কথা যেখানে ঝুলে আছে অসংখ্য লাশবাহী কফিন৷ গা শিউরে উঠলে উঠতেই পারে, কিন্তু তবুও এ কোন হরর মুভির দৃশ্যপট নয়৷ বাস্তবেই শহরটির অস্তিত্ব আছে৷ সাগাদা তার নাম৷ সেখানে পাথুরে পাহাড়ের কোল ঘেষে সারি সারি কফিনের সমারোহ। 

ঝুলন্ত কফিন
ঝুলন্ত কফিন, ফিলিপাইন

এ ব্যবস্থাটি মূলত প্রচলিত একটি মিথের প্রতিফলন। ধারণা করা হতো, মৃতদেহগুলিকে যত উঁচুতে ঝুলিয়ে রাখা যাবে, মৃত পূর্বপুরুষদের সাথে তাদের কথোপকথনের সম্ভাবনা ততটাই বেশি৷ যদিও বর্তমানে স্থানীয়রা এখন আর এই যুক্তিতে বিশ্বাসী নয়। 

/ যোনগুনি রইনস, জাপান –
অ্যাটলান্টিস প্রাচীন শহরটি সমুদ্রের গভীরে অবস্থিত একটি রহস্যময় পিরামিডের কাঠামো৷ এটিকে এক সময় প্রকৃতির সৃষ্টি হিসেবে ধারণা করা হলেও, গবেষণার মাধ্যমে জানা গেছে এটি একটি দীর্ঘতম সভ্যতার অংশবিশেষ। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো এটি ১৯৯৫ সালে আবিষ্কৃত হয়েছিল।

যোনগুনি রইনস
যোনগুনি রইনস, জাপান –

যার অর্থ, এর আগে পর্যন্ত এটি পৃথিবীর কাছে অজানা ছিল৷ আস্ত একটা শহর কীভাবেই বা গায়েব থাকলো এতদিন! এই রহস্যের হাতছানি এখনো টানছে অসংখ্য আগন্তককে৷ 

৫/ ফেংডু ঘোস্ট সিটি, জাপান-
ভুতুরে এই শহরটি পরকালের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত৷  এটিকে নিয়ে প্রায় ২০০০ বছর পূর্বে একটি পৌরাণিক কাহিনী জানা যায়৷ রাজ্যের দুজন কর্মকর্তা নাকি এ পাহাড়ে যাবার মাধ্যমে অমর হয়েছিলেন। 

ফেংডু ঘোস্ট সিটি

তার মধ্যে একজন ছিল ইয়িং এবং অন্যজন ওয়াং। একত্রে শব্দ দুটি দাড়ায় “ইয়িংওয়ং” অর্থাৎ জাহান্নামের রাজা৷ এছাড়াও এখানে বেশ কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, ভাস্কর্য এবং ভৌতিক লেখচিত্র আছে।

আরোও পড়ুনঃ পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী ১০ টি দেশের কথা

৬/ পাথরের পেয়ালা –
মধ্য লাওসের পার্বত্য অঞ্চলে এর অবস্থান৷ এখানে প্রায় ২০০০টিরও বেশি  পাথরের পেয়ালা রয়েছে৷ কিন্তু এতগুলো রহস্যময় পাথরের পেয়ালার সৃষ্টি নিয়ে ধোঁয়াশা এখনো কাটে নি। কেউ কেউ বলেছেন এসব প্রাচীন সমাধিস্থলের অংশ, আবার কেউ বা দাবি করেন এগুলো ওয়াইন তৈরিতে ব্যবহৃত হতো।

পাথরের পেয়ালা
পাথরের পেয়ালা

আরো বেশি আশ্চর্যের কথা হলো, ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে এই রহস্যঘেরা স্থান টিতে এত ভারী বোমা বর্ষনের পরেও কি করে এই পাথরের পেয়ালাগুলো এখনো অক্ষত অবস্থায় আছে, এটি একটি বিরাট প্রশ্ন। 

৭/ইরাওয়ান জাতীয় উদ্যান,  থাইল্যান্ড-
সাঁতার প্রেমী মানুষের জন্য ইরাওয়ান জাতীয় উদ্দ্যান পছন্দের প্রথম দিকের তালিকায় থাকবে । পরিসংখ্যান অনুযায়ী এটি থাইল্যান্ডের পর্যটন কেন্দের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ৷ জলপ্রপাত গুলোর দৃশ্যপট তিন মাথাযুক্ত হাতির সাথে অনেক বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ৷ এছাড়াও এখানে পাঁচটি গুহা পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত৷ কয়েকটা গুহার সাথে বৌদ্ধধর্মের বেশ কিছু বিষয় সম্পর্কিত বলে এটি সেখানকার অন্যতম ধর্মীয় স্থান হিসেবেও পরিচিত৷

ইরাওয়ান জাতীয় উদ্যান
ইরাওয়ান জাতীয় উদ্যান

Check Also

মুসলিম বিজ্ঞানী – ‘আল বাত্তানী’

সাইন কোসাইনের সাথে ট্যানজেন্টের সম্পর্ক অথবা একটি ত্রিভুজের বাহুর সাথে তার কোণের  যে সম্পর্ক বিদ্যমান …