মুসলিম বিজ্ঞানী – ‘আল বাত্তানী’

সাইন কোসাইনের সাথে ট্যানজেন্টের সম্পর্ক অথবা একটি ত্রিভুজের বাহুর সাথে তার কোণের  যে সম্পর্ক বিদ্যমান এ বিষয়গুলো আপনার নিশ্চয়ই স্কুল জীবনে শেখা হয়ে গেছে।

আবার এক বছর মানে  ৩৬৫দিন!  বলুন তো, এই হিসেব আমাদের সবার মুখে মুখে কিভাবে এল? এসব কিছুর নেপথ্যে যে মানুষটির নির্ভুল এবং নিরলস প্রয়াস জড়িয়ে আছে তার নাম আবু আব্দুল্লাহ ইবনে জাবীর ইবনে সিনান আল বাত্তানী। তিনি আমাদের কাছে আল বাত্তানী হিসেবেই পরিচিত। আজ আমরা তার জীবনের নানান দিক নিয়ে জানবো। 

মেসোপটেমিয়ার বাত্তানে  ৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন এই মুসলিম মনীষী বিজ্ঞানী। বাবা জাবীর ইবনে সানান জন্মস্থানের নামেই নামকরণ করেন ছেলের । তিনি নিজেও ছিলেন একজন পণ্ডিত ব্যক্তি। বাবার কাছেই বাত্তানীর শিক্ষার হাতে খড়ি। বস্তুত বাত্তানী ছিলেন প্রবল জ্ঞানপিপাসু এবং মেধাবী। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে উচ্চ শিক্ষার জন্য রাক্কা শহরে গমন করেন তিনি। অতি অল্প সময়েই বাত্তানী নিজের মাঝে বিপুল জ্ঞান ধারণ করে ফেলেন। মাত্র ২০ বছর বয়সে নিজেকে একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। খলিফা মুতাওয়াক্কিলের মৃত্যুর সময় বাত্তানী সবেমাত্র একজন তরুণ। দেশের অরাজক পরিস্থিতে তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং এক পর্যায়ে সিরিয়ার গভর্নর মনোনীত হন।

তবে এত কিছুর মাঝেও জ্যোতির্বিজ্ঞান, গণিত এবং ত্রিকোণমিতি নিয়ে চলে তার নিরলস গবেষণা। সৌরজগৎ এবং গতি নিয়ে তার নতুন মতবাদ সর্বসাকুল্যে  গৃহীত হয় এবং টলেমীর বিভিন্ন তত্ত্ব সংশোধিত হয়।

সূর্য স্থির, টলেমির এই মতবাদকে তিনি ভুল বলে আখ্যায়িত করেন এবং প্রমাণ করে দেখান সূর্যের কৌণিক ব্যসার্ধের পরিবর্তণ। আল বাত্তানীই সর্বপ্রথম ত্রিকোণমিতিকে একটি স্বাধীন স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। গোলাকার ত্রিকোণমিতির অনেক জটিল বিষয়ের সহজ সমাধান দেন তিনি। তিনিই প্রথম জানান দেন যে, ত্রিভুজের বাহুর সাথে এর কোণের সম্পর্ক বিদ্যমান। বাত্তানীই প্রথম সাইন,কোসাইনের সঙ্গে ট্যানজেন্টের সম্পর্ক স্থাপন করেন। এতদিন ত্রিকোণমিতি ছিল অত্যন্ত অবহেলা এবং অযত্নে। তবে বাত্তানীর হাতের সংস্পর্শে যেন নতুন প্রাণ পেল ত্রিকোণমিতি। আবারও এটিকে ঘিরে শুরু হল গবেষণা। অংক শাস্ত্রে গ্রন্থ রচনার সুত্রপাত বাত্তানীর হাত ধরেই হয়েছিল।

জ্যোতির্বিজ্ঞান, ত্রিকোণমিতি এবং গণিতের ওপর তিনি বহু মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেন যেগুলো পরবর্তীতে ইউরোপে বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছিল। এই মহান মুসলিম মনীষী বিজ্ঞানী ৯২৯ খ্রিস্টাব্দে ৭২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। আমরা সব সময়ই আল বাত্তানীর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।

Check Also

ধর্ষণ, নিপীড়ন – কোন দেশে কত জন?

ধর্ষণ পৃথিবীর গর্হিত অপরাধগুলোর একটি। একেক দেশে এটির শাস্তি বিধান একেক রকম। অনেক দেশেই ধর্ষণকে …