মেরিলিন মনরোর মেকআপ

মেরিলিন মনরোর মেকআপ রহস্য!

মেরিলিন মনরো, শতাব্দীর সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্দা কাঁপানো অভিনেত্রী। এখনও যার নাম মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হয়। মডেলিং, গান ও অভিনয়ের জগতে তার উপস্থিতি ছিল অভিনব। অনন্য সাধারণ মুখচ্ছবি আর তার নিজস্ব স্টাইল তাকে সকলের কাছে আবেদনময়ী করে তুলেছিল যা আজও জীবন্ত।

মনরোর কিছু স্টাইল হালের ফ্যাশন সচেতন মেয়েরা এখনও আপন করে রেখেছে।

চোখে হালকা সাজ আর ঠোঁটে কড়া লাল লিপস্টিক ব্যবহারকে মনরোই জনপ্রিয় করে তোলেন। হাইহিল ছিল মনরোর বিশ্বস্ত বন্ধুর মতো। আজকের হাইহিল পরিহিত আত্মবিশ্বাসী নারীদের ভালো লাগায় যে মনরো মিশে আছেন, এটা বলাই যায়।

চোখে আইলাইনার ব্যবহারেও তিনি নতুন মাত্রা এনে দেন যা ‘ক্যাটস আই স্টাইল’ নামে পরিচিত। কালো লাইনার চোখের উপর একটু টেনে দিলেই চোখ কিছুটা রহস্যময় হয়ে ওঠে। মনরোর ব্যক্তিত্ব অনেকটাই ওই রহস্যময় চোখের দৃষ্টিতেই ফুটে উঠতো। চোখে এই রহস্যভাব ফুটিয়ে তুলতে মেয়েরা আজও এভাবে চোখে আই লাইনার ব্যবহার করে।

বর্তমানে মেয়েদের হাইওয়েস্ট প্যান্ট পরার চলনও মনরো থেকেই শুরু। তিনি নিজস্ব ডিজাইনারের মাধ্যমে নিজের জন্য এই হাইওয়েস্ট প্যান্টগুলো বানাতেন। সেসময় শার্টের সাথে এসব প্যান্ট পরার একটা হিড়িক পরে যায় তখনকার নারীদের মধ্যে। মেরিলিন মনরো স্কার্ফ ব্যবহারকেও জনপ্রিয় করে তোলেন। ফুলেল বা জ্যামিতিক নকশার এই পাতলা স্কার্ফগুলো তিনি চুলে বাঁধতেন বা হাতে রাখতেন। রুপ, স্টাইল আর ফ্যাশনকে তিনি একটা আর্টের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।

মনে হতে পারে তিনি সব সময় নামীদামী ব্র্যান্ডের মেকআপ প্রোডাক্ট ইউজ করে নিজেকে আকর্ষনীয় করে তুলতেন। কিন্তু না, তিনি এমন সব সাধারণ জিনিস দিয়ে নিজেকে সাজাতেন যা জানলে অবাক হতে হয়। এমন সব কথাই বই আকারে জানিয়েছেন মেরিলিন মনরোর ব্যক্তিগত মেকআপ আর্টিস্ট অ্যালেন উইটি স্নাইডার। উইটি স্নাইডারের বই থেকে জানা যায় মেরিলিন মনরোর রুচি সম্পর্কে। মেরিলিন মনরোর মেকআপে যেসব পদ্ধতি ব্যবহার করতেন অ্যালেন তার অনেক কিছুই এখনও অনুসরন করেন। এমনকি অনেক বড় বড় তারকারাও সেই পদ্ধতি মেনে সাজপোশাক সামাল দেন! মনরোর রহস্যময় সৌন্দর্যের মধ্যে মেকআপের কিছু রহস্যের কথা জেনে নেয়া যাক।

ভ্যাসলিনের ব্যবহার

মনরোর মুখটা একবার মনে করে দেখুন তো? পেলব একটা মুখ, তাই না? মনরো প্রাইমার হিসাবে ব্যবহার করতেন ভ্যাসলিন! যা কিনা মশ্চেরাইজারের কাজ করত। এরপর লাগাতেন ফাউন্ডেশন। কড়া আলোর ফটোশুটে তাই তার চেহরা অনেক কোমল দেখাতো। এছাড়া হাইলাইটার হিসাবেও তিনি ভ্যাসলিনকেই প্রাধান্য দিতেন। বিউটি বোন বা ভ্রুয়ের হাড় দুই স্থানেই লাগাতেন ভ্যাসলিন। এতে তার কপাল চকচক করত।

বিভিন্ন রঙের লিপস্টিক

ভুবনজয়ী হাসি ছিল মেরিলিন মনরোর। অ্যালেন তার ঠোঁটের উপর চালাতেন এক শিল্পকর্ম! মাঝখানে লাগাতেন হালকা রং আর সেই রঙের শেডের গাঢ় রং লাগাতেন ঠোঁটের প্রান্ত পর্যন্ত। এতে ঠোঁট হয়ে উঠত মোহনীয়। এ ক্ষেত্রে অ্যালেন পাঁচটি পর্যন্ত রং ব্যবহার করতেন এক বারে। মনরোর অধিকাংশ ছবিতেই তাকে উজ্জ্বল ও গাঢ় রঙয়ের লিপস্টিকেই দেখা যায়।

চোখের পাতায় নারকেল তেল!

মনরো নিজেই বিশ্বাস করতেন যে তার চোখের ভেজা ভেজা ভাবটা খুব সুন্দর আর নজরকাড়া। অ্যালেন তাই চোখের পাতায় এক ফোটা নারকেল তেল ব্যবহার করতেন চোখটাকে ভেজা ভেজা দেখানোর জন্য। চোখের সৌন্দর্য আর ত্বকের কথা ভেবে এই পদ্ধতি আজই ব্যবহার করতে পারেন। কে না চায় নিজেকে সুন্দর দেখাতে!

আরোও পড়ুনঃ জাপানি লেখক হারুকি মুরাকামির সাক্ষাতকার

বিভিন্ন রঙের আই লাইনার

দেখা যায় মেয়েরা হয় কালো অথবা বাদামী আই লাইনার ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু মনরোর চোখে আই লাইনার দিতে গিয়েও অ্যালেন বিভিন্ন রঙ, যেমনঃ কালো, বাদামী, লাল সাদা এসব রং ব্যবহার করতেন। চোখগুলোকে বড় আর অভিনব করে দেখানোর জন্য এই রং দিয়ে রীতিমতো কসরত করতেন তিনি।

আধখানা চোখের পাপড়ি

মনরো তার চোখের পাপড়ি বড় দেখাতে চাইতেন। অ্যালেন নকল চোখের পাপড়ি কেটে শুধু চোখের কোণায় লাগাতেন সেটা। ফলাফল তো আপনার চোখের সামনেই। কী অদ্ভুত এক ভাষা সে চোখের!

Check Also

হোয়াকিন ফিনিক্স

হোয়াকিন ফিনিক্স : অস্কারজয়ী এক নায়কের নেপথ্যের ইতিহাস

সম্প্রতি লস এঞ্জেলসের ডলবি থিয়েটারে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসর অস্কার৷ এবারের …