বূদ্ধি বাড়ানোর খাবার
বূদ্ধি বাড়ানোর খাবার

যে খাবারগুলো বুদ্ধি ও স্মৃতিশক্তি বাড়াবে

কর্মব্যস্ত জীবনের চাপে প্রতিদিনই শারীরিক ধকলের পাশাপাশি আমাদেরকে মানসিক নানা ধকলও সামলাতে হয়৷ পড়াশোনা থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্র পর্যন্ত বুদ্ধিবৃত্তিক নানা কাজে আমরা আমাদের মস্তিস্কের উপর নির্ভরশীল৷ মস্তিষ্ককে বলা হয় মানবদেহের কেন্দ্রবিন্দু৷ যার মস্তিস্ক যত কর্মক্ষম, বুদ্ধিবৃত্তিক জায়গায় সে তত শীর্ষে অবস্থান করে৷

গবেষনায় দেখা গিয়েছে কিছু কিছু খাবার আমাদের মস্তিষ্ককে আরো কর্মক্ষম করে তুলে আমাদের বুদ্ধি ও স্মরণশক্তি বিকাশে সরাসরি সহায়ক ভূমিকা পালন করতে সক্ষম৷ চলুন জেনে আসি, কোন কোন খাবারগুলো আমাদের বুদ্ধি ও স্মৃতিশক্তি বাড়ায়৷

মাছ

মাছ বুদ্ধি ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে খুব কার্যকরী ভূমিকা পালন করে৷ সামুদ্রিক মাছগুলো- যেমন, টোনা, স্যালমন তার পাশাপাশি মিঠাপানির বড় মাছগুলো তীব্রভাবে আমাদের মস্তিষ্কে ওমেগা-থ্রি-ফ্যাটি অ্যাসিডের যোগান দেয়৷ আমাদের মস্তিষ্কের প্রায় ৬০ ভাগ চর্বিজাতীয় উপাদানের মধ্যে অর্ধেকের বেশিই থাকে এই ওমেগা-থ্রি-ফ্যাটি এসিড৷ মস্তিষ্কে নতুন কোষের গঠন ও বৃদ্ধিতে এই উপাদানটি সরাসরি কাজ করতে সক্ষম৷ তাছাড়া নতুন কিছু শেখা ও মনে রাখাতেও এই উপাদানটি সহায়তা করে থাকে৷ বয়স হবার সাথে সাথে আমাদের শরীরে ক্রমশঃ যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয় তা রোধ করতে এই ওমেগা-থ্রি-ফ্যাটি এসিডের কার্যকরী ভূমিকার কথা শোনা যায় ৷ এবং মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত পরিমাণে ওমেগা-থ্রি-ফ্যাটি এসিডের যোগান না থাকলে মস্তিষ্ক ঠিক ভাবে কাজ করতে পারেনা৷ ফলে স্বাভাবিক শেখার ক্ষমতা তুলনামূলক কমে যায়৷ যেহেতু মাছেই এই উপাদানটি অনেক বেশি পরিমানে থাকে তাই মস্তিষ্ককে আরো সচল রাখতে পুষ্টিবিদেরা  নিয়মিত মাছ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন৷ তাছাড়া একটি গবেষনাতেও দেখা গেছে যে, মাছ খাওয়া লোকদের মস্তিস্কে গ্রে ম্যাটার এরিয়া তুলনামূলক বড় হয় ৷ গ্রে ম্যাটার, সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা,স্মৃতিশক্তি ও আবেগ নিয়ন্ত্রনে কার্যকরী ভূমিকা রাখে ৷

কফি

কফিতে থাকা ক্যাফেইন মস্তিষ্কের জন্য বেশ উপকারী৷ অ্যাডিনোসিন নামক একটি পদার্থ যা মস্তিস্কে ঢুকে আমাদের ঘুম ঘুম ভাবকে জাগিয়ে তুলে, ক্যাফেইন মস্তিস্কে সে অ্যাডিনোসিনের প্রবেশ পথ বন্ধ করে দেয়৷ ফলে মানুষ কফি সেবনের পরপরই নিজেকে সতেজ অনুভব করে৷ একটি গবেষণায় দেখা গেছে এই ক্যাফেইন আমাদের মস্তিষ্কে সেরাটোনিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে৷ ফলে আমরা সবসময় হাসিখুশি থাকি এবং প্রতিবারই কফি সেবনের পর মস্তিষ্ক আরো নতুন উদ্যমে কাজ করতে সমর্থ হয়৷ এভাবেই কফি মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে আমাদের লক্ষ্যের প্রতি আরো মনোযোগী রাখতে সহায়তা করে৷ এছাড়াও স্ট্রোক, পারকনসিস ডিজিজ সহ স্নায়বিক অনেক রোগ প্রতিরোধে কফির আছে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখার ইতিহাস৷

বাদাম

বাদাম মস্তিষ্কের কার্যকারীতায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় উপাদান ওমেগা-থ্রি-ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ৷ এ ছাড়াও বাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-ই এবং এন্টি অক্সিডেন্ট যা মস্তিস্কের কর্মক্ষমতা বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক৷ বয়সের সাথে সাথে মাথা আর আগের মত কাজ করেনা৷ বাদামে থাকা ভিটামিন-ই বৃদ্ধ বয়সেও মস্তিষ্ককে নিরবিচ্ছিন্ন সহায়তা করে সচল রাখতে সাহায্য করে৷ এছাড়াও ভুলে যাওয়া রোগ সারিয়ে তুলতেও বাদামের জুড়ি নেই৷ আখরোট এবং কাজুবাদাম এক্ষেত্রে সবচেয়ে উপকারি হিসেবে প্রসিদ্ধ৷

ডিম

ডিমে আছে এক ধরনের বিশেষ কোলস্টেরল যা মস্তিষ্কের নিউরনগুলোর ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক৷ ডিম খেলে যে অ্যান্টি অক্সিডেন্টগুলো বৃদ্ধি পায় সেগুলো মস্তিষ্কের কোষগুলোকে সুরক্ষা প্রদান করে৷ এতে মস্তিষ্ক থাকে সুস্থ ও নিরাপদ সবসময়৷

টমেটো

লাইকোপেন নামক এক ধরনের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকে টমেটোতে, যা আমাদের মস্তিষ্কের কোষগুলোর কর্মক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে৷ কোষগুলো যত সুস্থ থাকে স্মৃতিশক্তিজনিত কোন সমস্যা হওয়ার হার তত কমতে থাকে৷ লাইকোপেন ক্ষতিকারক পদার্থকে মস্তিষ্কে প্রবেশ করতে বাঁধা দেয় যা স্বাভাবিক বুদ্ধিবৃত্তিক কাজগুলোকে আরো সহজে ও অনন্য ব্যবস্থায় করতে সহযোগীতা করে থাকে৷

কমলা

প্রতিদিন একটি কমলা খেলেই দিনের সমস্ত ভিটামিন-সি এর চাহিদা মেটানো সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷ কর্মব্যস্ত জীবনের যে চাপ আমাদের মস্তিষ্ককে সবসময় উত্তেজিত করে রাখে, অনিয়ন্ত্রিত সেই চাপের ভারসাম্য ঠিক রাখে কমলা৷

সবুজ শাকসব্জি

বিভিন্ন শাক ও সব্জি আছে যেগুলো মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দিতে পারে৷ যেমন, পালং শাক মনোযোগ কমে যাওয়া রোধ করে৷ এর ভেতরে থাকা লৌহ শরীরে অক্সিজেন সরবরাহে সহায়তা করে৷ তাছাড়া ব্রোকোলি, বাধাকপি, ফুলকপির মত সব্জিগুলো মস্তিষ্কের বার্ধক্যজনিত স্মৃতিরোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে৷ ফলে বৃদ্ধ বয়সে স্মৃতিলোপ পাওয়ার হাত থেকে অনেকাংশেই বাঁচা সম্ভব হয়৷

গ্রীন টি

গ্রীন টিতেও ক্যাফেইন থাকে যা কাজের চাপ কমিয়ে আমাদের নির্ভার রাখতে সহায়তা করে৷ এছাড়াও মস্তিষ্কে রক্তস্বল্পতা ঘটায় এমন সবধরনের সম্ভাবনা গ্রীন টি খেলে কমে যায়৷ গ্রীন টি মনোযোগ বৃদ্ধিতেও দারুন কার্যকরী জিনিস৷ 

ডার্ক চকলেট

ডার্ক চকলেট মস্তিষ্কের জন্য বেশ উপকারি একটি খাদ্য৷ মস্তিষ্কের সুগঠন, এর স্বাভাবিক রক্ত চলাচল প্রক্রিয়া ধরে রাখতে এর কোন বিকল্প নেই৷ ডার্ক চকলেটের উপাদান কোকোয়া মস্তিষ্কের উপর নানামুখী চাপ কমাতে বেশ সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে৷ চনমনে রাখতে, স্মৃতিশক্তি ও বুদ্ধি বাড়াতে ডার্ক চকলেট সারাবিশ্বে বেশ জনপ্রিয়৷

উপরের খাদ্যগুলো আমাদের চারপাশে সবসময় সুলভ্য৷ নিয়মিত এই খাদ্যগুলো গ্রহনের মাধ্যমেই একজন মানুষের স্মৃতিশক্তি বাড়তে পারে, তিনি মনোযোগী হয়ে উঠতে পারেন আগের তুলনায় অনেক বেশি৷ এই খাদ্যগুলোর পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম, খাবার গ্রহনে ভারসাম্যতা, ঘুম, ইয়োগা’র মাধ্যমে বলবান করতে পারি আমাদের মস্তিষ্ককে৷ 

চলুন, তবে আজ থেকেই বুদ্ধি বাড়ানোর কাজে নেমে পড়া যাক৷

লেখকঃ রায়হান

Check Also

মুসলিম বিজ্ঞানী – ‘আল বাত্তানী’

সাইন কোসাইনের সাথে ট্যানজেন্টের সম্পর্ক অথবা একটি ত্রিভুজের বাহুর সাথে তার কোণের  যে সম্পর্ক বিদ্যমান …