রেলগাড়ি আবিষ্কারের মজার গল্প
রেলগাড়ি আবিষ্কারের মজার গল্প

রেলগাড়ি আবিষ্কারের মজার গল্প

ছেলেবেলায় আমরা একজনের কাধে দুটি হাত রাখতাম, আবার নিজের কাধে অন্য কেউ দু হাত রেখে পর্যায়ক্রমে ট্রেনের বগি বানাতাম। এরপর আমরা ছন্দে ছন্দে চলা শুরু করতাম। যেখানে ছন্দ থেমে যেত সেখানে একজন চোর বগি আটকে দিত। এভাবে আটকে পরা বগীর বন্ধুটি চোরের ভূমিকায় চলে যেত। কী চমৎকার ছিল আমাদের ছেলেবেলা। কি চমৎকার ছিল, রেলগাড়ি ঝমাঝম, পা পিছলে আলুর দম ছড়াটি!

যে কোন কারনেই হোক ছেলেবেলার একটা অন্যতম আকর্ষণ ছিল রেলগাড়ি। রেলগাড়িতে প্রথম চড়ার অভিজ্ঞতাও ছিল দারুণ। আবার বড় হয়ে আমরা দেখেছি, রেললাইন আত্মহত্যার জন্যও খুবই কুখ্যাত। মূলকথা ‘রেল ‘ বিষয়টিতে একটা ফ্যান্টাসি আছে।

রেলগাড়ি আবিষ্কারের রয়েছে একটি সুন্দর ইতিহাস। এ নিয়েই আমাদের আজকের আলোচনা।

ট্রাহিনার একটি ফরাসী শব্দ যার শাব্দিক অর্থ টানা কিংবা টেনে আনা। এ শব্দটি থেকেই পালাক্রমে ট্রেন শব্দটির উৎপত্তি। রেলের সমান্তরাল পাত যার ওপর দিয়ে এটি যাত্রী, মালামাল ও বগী বহন করে চলে তার নাম রেললাইন। আমরা সবাই জানি যে রেললাইনে দুটি সাধারণ পাত থাকে। তবে কিছু কিছু রেলের পাত কিন্তু একটি। মনোরেইল এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। রেলের বগিগুলো চালনার জন্য যে ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয় তার নাম লোকোমোটিভ। বাষ্পচালিত ইঞ্জিন রেলে শেষ ব্যবহার হয়েছিল বিংশ শতাব্দীতে। ডিজেল আবিষ্কৃত হওয়ার পর সবকিছুতেই এল যুগান্তকারী পরিবর্তন। এখন রেলে বৈদ্যুতিল ইঞ্জিনই বেশি ব্যবহার হয়।

প্রাথমিক অবস্থায় ট্রেন, ঘোড়া বা মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে টেনে চালানো হতো। এরপর আসে বাষ্পীয় ইঞ্জিনের ব্যবহার, এরপরে ডিজেল  এবং সবশেষে আধুনিক বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন। 

স্কটল্যান্ডে বাস করতেন এক তরুণ। তরুণের নাম জেমস ওয়াট। একদিন পানি গরমের জন্য উনুনে পাত্র রেখে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। হঠাৎ তিনি লক্ষ্য করলেন পানি গরম হয়ে ঢাকনাটা ক্রমশই সরে যাচ্ছে এবং একসময় সেটা পাত্র থেকে পড়ে গেল। এতদিনের এই স্বাভাবিক বিষয়টি আজ একটু অন্যরকম লাগল ওয়াটের কাছে। তিনি ভাবলেন, বাষ্পও যথেস্ট শক্তিশালী। কেননা এই সামান্য পানি থেকে উৎপন্ন বাষ্প ঢাকনাটিকে ফেলে দিতে সক্ষম। আগে থেকেই জেমস একটি কারখানায় কাজ করতেন। নানা ধরনের যন্ত্রপাতির পরীক্ষা নিরীক্ষা করতেন তিনি সেখানে। একদিন কারখানায় একটি যন্ত্র এলো মেরামতের উদ্দেশ্যে। জেমস অবাক হয়ে গেল যখন সে দেখল, সেই যন্ত্রটিতেও কাজের ক্ষেত্রে বাষ্পকে ব্যবহার করা হয়েছে। তবে কাজটি সম্পূর্ণ ছিল না। কেননা বাষ্পকে নির্মাতা পুরোপুরি  কাজে লাগাতে পারে নি। আচমকা একটা পরিকল্পনা তার মাথায় খেলল। যেই ভাবা সেই কাজ। জেমস অনেক অধ্যাবসায়ের পর এমন একটি ইঞ্জিন বানাতে সমর্থ হলেন যেটি কিনা বাষ্পে চালিত। অর্থাৎ বাষ্পীয় ইঞ্জিন।এখন এটাকে কিভাবে কাজে লাগাবেন, তাই তিনি ভাবতে থাকলেন।

সেসময় খনি থেকে কয়লা তোলার কাজ ছিল বেশ শক্ত। অর্থও অপচয় হত বেশ। 

তবে ওয়াটের বাষ্পচালিত ইঞ্জিন সে সমস্যা সমাধান করে দিল। খনি থেকে কয়লা উত্তলন অত্যন্ত সহজ হয়ে গেল। তবে শুধু উত্তোলন করলেই তো হবে না। কয়লা বোঝাই মাল এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তর করা প্রয়োজন। সেসময় স্টিফেনসন নামে একজন লোক ছিলেন যার ছিল কয়লার খনিতে কাজ করার বাস্তব অভিজ্ঞতা। তবে এই ভদ্রলোক কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পান নি। জেমসের বাষ্পীয় ইঞ্জিনের কথা শুনে তিনি অত্যন্ত উৎসাহ বোধ করলেন। নাইট স্কুলে পড়াশোনা শুরু করলেন তিনি। মেধার জোড়ে অল্প সময়ে অনেক কিছু শিখলেন তিনি। তারপর থেকে মাথায় একটাই চিন্তা তার, কীভাবে বাষ্পীয় ইঞ্জিনকে গতিশীল করা যায়। অবশেষে নিরন্তর চেস্টার ফলে তিনি এমন কিছু আবিষ্কার করলেন যেটি ইঞ্জিন সহযোগে সমতল পথে চলতে পারে। এই সমতল পথের বিষয়টি থেকে  পরবর্তীতে রেল লাইন নির্মিত হল। প্রাথমিক অবস্থায় ইঞ্জিনটি সফলতা পেল। 

অর্থাৎ মাল বোঝাই করে অন্যত্র পৌছে দিল।  এরপর মানুষ যেন মালবাহী গাড়িতে জিনিসপত্রের সাথে একসাথে যেতে পারে তার পরিকল্পনা করা হল এবং সেটিও  সফলতা পেল। ফলে আর কোন সমস্যাই রইল না। পুরোদমে শুরু হয়ে গেল রেলগাড়ি ঝমাঝম।

যাত্রী এবং মালামাল পরিবহনে বিশ্বে তুমুল জনপ্রিয়তা পেল রেল৷ পরবর্তীতে বাষ্পের ইঞ্জিন বদলে গেল ডিজেল ইঞ্জিন দ্বারা। আর তার পরবর্তী রুপ আমাদের আজকের রেলগাড়ি।

Check Also

মুসলিম বিজ্ঞানী – ‘আল বাত্তানী’

সাইন কোসাইনের সাথে ট্যানজেন্টের সম্পর্ক অথবা একটি ত্রিভুজের বাহুর সাথে তার কোণের  যে সম্পর্ক বিদ্যমান …