সৈকতের রঙ গোলাপী

যে সৈকতের রঙ গোলাপী!

সৈকতের রঙ গোলাপী!!! সমুদ্র সৈকতে বালি থাকবেই। কিন্তু কেমন হবে যদি সেই রাশি রাশির বালির রঙ হয় গোলাপী? কানাডার পার্পল স্যান্ড বীচের ব্যাপারটাই এমন। শুধু গোলাপী নয়, এই সৈকতের বালির রঙ ক্ষণে ক্ষণে বদলে যায়। ল্যাভেন্ডার থেকে শুরু করে ম্যাজেন্টা বা গোলাপী- এমন সবগুলো রঙই আপনি খুঁজে পাবেন এই সমুদ্র সৈকতে।

তবে পার্পল স্যান্ড বীচ একা নয়। এমন গোলাপী রঙয়ের বালি দিয়ে ভরা আরো অনেক সমুদ্র সৈকত আছে পৃথিবীতে। চলুন, সেগুলোর নাম জেনে নেয়া যাক। 

১। বালোস বে

পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, হাজার হাজার তার্কিশ সৈন্যের রক্তে ভিজে বালোস বে-র বালি গোলাপী হয়েছে। অবশ্য বাস্তবটা একটু অন্যরকম। মূলত, শামুকের খোলসের চূর্ণের কারণেই এখানকার বালির রঙটা এমন। গোলাপী এই পাহাড়ঘেরা সৈকতে পরিবারের সাথে অসাধারণ কিছু সময় আপনি কাটাতেই পারেন।

২। পিংক স্যান্ড বীচ

ক্যারিবিয়ান সমুদ্রের বারবুডাতে অবস্থিত পিংক স্যান্ড বীচের স্রোত এতোটাই জোরালো যে এর সাথে হাজার হাজার গোলাপী শামুক ভেসে আসে তীরে। এদের সংখ্যা এতোটাই বেশি যে চারপাশে তাদের টিকা-টিকা ধরণের শব্দটাও বারবার শুনতে পাবেন আপনি। একবার স্রোত ফিরে আসলে শামুকগুলো নিজেদের খোলস ফেলে সমুদ্রে চলে যায়। কিন্তু সৈকতে পড়ে থাকে তাদের গোলাপী খোলসের চূর্ণ। পিংক স্যান্ড বীচ তৈরি হয়েছে ঠিক এই পদ্ধতিতেই।

৩। বাহামার গোলাপী সৈকত

দারুণ সব ঐতিহ্যগত উৎসব, জীবনপদ্ধতি অবলোকন ও সৌন্দর্য দর্শন, এমন অনেকগুলো কারণ থাকে বাহামাতে ঘুরতে যাওয়ার। শুধুমাত্র বাহামার গোলাপী সমুদ্র সৈকত দেখার জন্যও দেশটিতে আপনি একবার বেড়াতে যেতেই পারেন। সমুদ্রের ফোরামিনিফেরা এবং কোরালের চূর্ণ মিলে এই গোলাপী সৈকত তৈরী হয়েছে। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের মধ্যে এই সৈকতকেই সবচেয়ে সুন্দর সৈকত বলে মনে করা হয়। 

৪। পেকেলেমীর লেক

এবার কোন সৈকত নয়, বলছি নেদারল্যান্ডের বোনায়েরে অবস্থিত গোলাপী এক লেকের কথা। হঠাৎ দেখলে আপনার মনে হবে যেন একটা গোলাপী পানির স্রোত ভেসে যাচ্ছে লেকের মধ্য দিয়ে। মূলত, লেকে দলবেঁধে ঘুরতে থাকা চিংড়ির কারণেই এমনটা হয়। সেইসাথে চিংড়ি ধরতে আসা গোলাপী ফ্ল্যামিঙ্গো পাখী তো রয়েছেই। এই দুই প্রজাতি মিলে পুরো লেকের রঙটাই বদলে দেয়।

৫। লেক হিলিয়ার

অস্ট্রেলিয়া ঘুরতে যাচ্ছেন? তাহলে গ্রেট বেরিয়ার রীফের পাশাপাশি দেখে আসুন গোলাপী লেক হিলিয়ারকেও। এই লেকের রঙটিকে অনেকে বাবলগাম কালার বলে থাকেন। এর কারণ হলো ডুনালিয়েলা স্যালিনা নামক একটি মাইক্রো-অ্যালগায়ে। এই মাইক্রো অরগানিজম পানির নিচে সূর্যের আলোকে ধরে রাখতে পারে। আর সূর্যের আলোকে গ্রহণ করার জন্য এই লেকের মধ্যে একরকমের গোলাপী ও লাল রঙয়ের মিশ্রণের মত তৈরি করতে পারে। সেজন্যেই এই পুরো লেকের পানির রঙটাই হয়ে যায় গোলাপী!

৬। লাস সালিনাস ডে টরিভিয়েজা

শুধু অস্ট্রেলিয়াই নয়, ঠিক একই কারণে স্পেনের লাস সালিনাস ডে টরিভিয়েজার পানির রঙটাও গোলাপী। এখানে লবণাক্ত পানির সাথে সাথে আছে দূর থেকে উড়ে আসা গোলাপী রঙয়ের ফ্ল্যামিঙ্গো পাখীও! এই লেকের পানি অনেকটা স্পা’র মতো কাজ করে। তাই এই লেকে ঘুরতে গেলে কিছুটা সময় পানিতে দাপাদাপি করেও কাটিয়ে আসতে পারেন। খামাখা পার্লারে গিয়ে বাড়তি টাকা খরচ কেন করবেন? লেকের পানিতেই স্পা সেরে নিন।

আরোও পড়ুনঃ মহাদেশের মহারাজার রহস্যঘেরা স্থান
৭। হাট লেগুন

অস্ট্রেলিয়ার এই পুকুরটি শুধু গোলাপীই নয়, এখানে আছে গোলাপী লবণাক্ত অ্যালগায়ে, যেটি ভিটামিন তৈরীতে সাহায্য করে। এই লেগুনকে পৃথিবীর সবচাইতে বড় বিটা ক্যারোটিনের ফার্ম বলা হয়। আপনার ত্বক ও চোখের জন্যও এই গোলাপী রঙয়ের উপাদানটি বেশ কার্যকরী। ব্যাস, পেয়ে গেলেন আরেকটি প্রাকৃতিক রুপচর্চার পার্লার। 

৮। লস কলারাডাস

ঠিক কোন কারণে মেক্সিকোর লস কলারাডাস এমন গোলাপী হয়েছে তা বলা মুশকিল। কারণ,  শামুকের চূর্ণ, লাল অ্যালগায়ে, বেটা-ক্যারোটিন, ফ্ল্যামিঙ্গো- সবগুলো উপাদানই এখানে আছে। আছে গোলাপী চিংড়িও। ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ এই স্থানটিকে প্রাচীন মায়ানদের লবন উৎপাদনের অন্যতম একটি উৎস বলা হয়। 

তাহলে কী ভাবছেন? আপনার পরের ভ্রমণটা নাহয় উপরের স্থানগুলোর মধ্যেই যেকোন একটিতে হয়ে যাক! 

Check Also

মুসলিম বিজ্ঞানী – ‘আল বাত্তানী’

সাইন কোসাইনের সাথে ট্যানজেন্টের সম্পর্ক অথবা একটি ত্রিভুজের বাহুর সাথে তার কোণের  যে সম্পর্ক বিদ্যমান …